মূল অংশে যান
গাজীপুরের খামার

আমাদের খামার

যেখানে মুরগিগুলো আসলে হাঁটাচলা করে

ভবানীপুর, শ্রীপুর, গাজীপুর — ঢাকা থেকে দেড় ঘণ্টার পথ। আগে জানিয়ে আসলে যে কেউ ঘুরে দেখে যেতে পারেন।

অবস্থান
ভবানীপুর, শ্রীপুর, গাজীপুর
শুরু
২০১৯ সাল
শেড
৪টি, প্রতিটিতে খোলা রান
একসাথে সর্বোচ্চ
৩৫০০টি মুরগি
খামারের মাঠ, ভোরবেলা

বছর ধরে একই খামারে, একই পদ্ধতিতে

আমাদের গল্প

শুরুটা নিজের পরিবারের জন্যই ছিল

২০১৯ সালে বাজার থেকে মুরগি কিনে বাসায় রান্নার পর একটা অদ্ভুত গন্ধ পেতাম। খোঁজ নিয়ে জানলাম, বেশিরভাগ ফার্মে বাচ্চা থেকে বিক্রি পর্যন্ত নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় — শুধু দ্রুত ওজন বাড়ানোর জন্য।

তখন গাজীপুরে ছোট একটা শেড নিয়ে ২০০টা বাচ্চা দিয়ে শুরু করি, নিজেদের খাওয়ার জন্য। প্রতিবেশীরা চাইতে শুরু করলেন, তারপর তাদের আত্মীয়রা। এখন প্রতি সপ্তাহে ঢাকার অনেক পরিবারে যায়।

আমরা এখনো ছোট। ইচ্ছে করেই। বড় করতে গেলে যে যে জিনিস ছাড় দিতে হয়, সেগুলোই তো আমাদের শুরু করার কারণ ছিল।

কীভাবে বড় করি

বাচ্চা থেকে আপনার রান্নাঘর পর্যন্ত

আট সপ্তাহের পুরো সময়টা কী হয়, ধাপে ধাপে।

  1. প্রথম সপ্তাহ

    বাচ্চা আসে হ্যাচারি থেকে

    সরকার অনুমোদিত হ্যাচারি থেকে একদিনের বাচ্চা আনা হয়। আসার দিনই ওজন আর সংখ্যা লিখে ব্যাচ খোলা হয়। এই ব্যাচ নম্বরটাই শেষ পর্যন্ত আপনার প্যাকেটে যাবে।

  2. ২য় – ৪র্থ সপ্তাহ

    নিজেদের তৈরি খাবার

    ভুট্টা, সয়াবিন খৈল, চালের কুঁড়া আর ঝিনুকের গুঁড়া মিশিয়ে খাবার তৈরি হয় খামারেই। কোনো গ্রোথ বুস্টার বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রিমিক্স ব্যবহার করা হয় না।

  3. ৫ম – ৮ম সপ্তাহ

    খোলা জায়গায় চলাফেরা

    দিনে মুরগি শেডের বাইরের ঘেরা জায়গায় ছাড়া হয়। হাঁটাচলা করলে মাংস শক্ত হয়, চর্বি কম জমে — রান্নার পর পার্থক্যটা টের পাওয়া যায়।

  4. নিয়মিত

    পশু চিকিৎসকের পরিদর্শন

    প্রতি সপ্তাহে রেজিস্টার্ড পশু চিকিৎসক এসে দেখে যান। কোনো মুরগি অসুস্থ হলে আলাদা করে রাখা হয় এবং সেটি কখনো বিক্রির জন্য যায় না।

  5. প্রসেসিংয়ের দিন

    ভোরে হালাল প্রসেসিং

    অর্ডার অনুযায়ী ভোর ৫টা থেকে প্রসেসিং শুরু হয়। ধোয়া, ওজন আর প্যাকিং একই দিনে শেষ করে আইস বক্সে তোলা হয়।

নিজের চোখে দেখে যান

আমরা কাউকে না করি না। শুক্রবার সকালে খামার খোলা থাকে দর্শনার্থীদের জন্য। আসার আগে একটা কল দিয়ে রাখলে সুবিধা হয় — শেড পরিষ্কারের সময়টা এড়িয়ে আসতে পারবেন।

খামারের ভেতরের পথ

আমাদের কাজ যাচাই করতে চান?

যেকোনো প্যাকেটের ব্যাচ নম্বর দিলে ওই মুরগিটির পুরো রেকর্ড দেখতে পাবেন — কোন শেডে ছিল, কী খেয়েছে, কবে প্রসেস হয়েছে।

ব্যাচ যাচাই করুন